ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নে পাগলা বাজার এলাকায় অবস্থিত পাগলনাথ মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাস মোহন্তের বিরুদ্ধে।
এছাড়া মন্দিরের সম্পত্তিতে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও সেই নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছেন সেবায়েত চিন্ময় দাস মোহন্ত। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবু দাস।
মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাস মোহন্তের বিরুদ্ধে মাদক সেবন এবং মহিলাদের ঝাড় ফুঁক ও কবিরাজির নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অনেকে। ইতিপূর্বে মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সেবায়ত চিন্ময়।
এলাকাবাসী জানান, মন্দিরের সম্পত্তি কেউ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ দখল করতে পারে না কিন্তু পাগলনাথ মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাস মোহন্তের বিরুদ্ধে মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে দোকান তুলে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মন্দিরের সামনের সরকারি খাস জায়গায় দোকান তুলে তা বিক্রি করে দিয়েছেন সেবায়েত চিন্ময় দাস।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় এবং সেবায়েত চিন্ময় দাস মহন্তের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে সামাজিকভাবে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তা সফল হয়নি। তাই এবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আশা করেছেন তারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ আমরা পেয়েছি অভিযোগ পেয়ে আমরা উভয়পক্ষকে থানায় ডেকেছিলাম কিন্তু বিবাদীপক্ষ আসেনি। আমরা ফোন করে তাদেরকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে দিয়েছি যদি আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয় তাহলে গ্রেফতারসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. অনিল চন্দ্র দাস বলেন, মন্দিরের সেবায়েত হতে হবে ব্রাহ্মণ কিন্তু আমাদের পাগলনাথ মন্দিরের সেবায়ত চিন্ময় দাস ব্রাহ্মণ না হয়েও সেবায়েতের দায়িত্ব জোর করে পালন করছেন। মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।
আদালত মন্দিরের সকল কার্যক্রমের উপর ১৪৫ ধারা জারি করেছেন কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছেন সেবায়েত চিন্ময় দাস মোহন্ত। তাছাড়া মন্দির অভ্যন্তরে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাই এবং মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানার জন্য মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাস মোহন্তের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কথা বলেননি।
Leave a Reply