অক্ষয় তৃতীয়া : পূণ্য, সমৃদ্ধি ও শুভ সূচনার প্রতীক
শ্রী দেবব্রত সরকার, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী
বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিকে অক্ষয় তৃতীয়া বলা হয়| এইদিনটি হিন্দু ধর্মের শুভ ও মঙ্গঁলময় দিন হিসেবে বিবেচিত হয়|
অক্ষয় অর্থ যা কোনদিন ক্ষয় হয় না বা নষ্ট হয় না| অর্থাৎ যাহা চিরস্থায়ী | এই দিনের মূল তাৎপর্য হলো চিরস্থায়ী শুভ ফল, সমৃদ্ধি ও পূণ্য লাভ| এক কথায় বলা যায়, অক্ষয় তৃতীয়া হলো-
শুভ সূচনার দিন;
দান ও পূণ্যের দিন;
সমৃদ্ধি, স্থায়ী ও মঙ্গঁলের দিন|
ধর্মীয় সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টি কোণ থেকে অক্ষয় তৃতীয়া এক অনন্য গুরুত্ব বহন করে| অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে অনেক পৌরাণিক কাহিনী আছে| এই দিনে ভগবান পরশুরামের আবির্ভাব ঘটে| যিনি ছিলেন বিষ্ণুর অবতার| মহাকাব্য মহাভারত রচনা শুরু হয়েছিলো এই দিনেই| পঞ্চ পাণ্ডব ও দ্রৌপদি বনবাস কালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট থেকে অক্ষয় ভান্ড (পাত্র) লাভ করেন| যাহা কখনো শুন্য হতো না| এই ঘটনা গুলো অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্বকে আর সুদৃঢ় করে|
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দান (অন্ন, বস্ত্র, জল), পূজা ও উপবাস পালন করা হয়ে থাকে| বিশেষ করে তৃষ্ণার্ত মানুষকে জল বিতরণ, দুস্থদের মধ্যে অন্ন বস্ত্র ও বাসস্থান ব্যবস্থা করা| ভারতীয় উপমহাদেশে এটা একটা সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়ে উঠেছে|
অনেক পরিবার এই দিনে:
* নতুন ব্যবসা শুরু করে;
* সোনা বা মূূল্যবান সম্পদ ক্রয় করে;
* বিবাহ বা গৃহ নির্মাণের মত শুভ কাজ কর্ম করে;
এতে বিশ^াস করা হয় যে, এই দিনে শুরু করা কাজ বাধা বিঘ্ন মুক্ত হয়| যা দীর্ঘস্থায়ী সফলতা বয়ে আনে| যা অর্থনৈতিক ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গেঁও গভীরভাবে সম্পৃক্ত|
অক্ষয় তৃতীয়া শুধু মাত্র বাহ্যিক উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও ভক্তির বিশেষ সমš^য়ে ঋদ্ধ| এক বিশেষ দিন| এ দিনে মানুষ-
* নিজের অন্তরের পবিত্রতা বৃদ্ধি করে;
* লোভ হিংসা ও অহংকার পরিহার করে সৎপথে চলার সংকল্প গ্রহণ করে|
এই আধ্যাত্মিক অনুুশীলনই প্রকৃত অর্থে অক্ষয় বা চিরস্থায়ী শান্তি ও কল্যাণের পথ প্রশস্ত করে| বর্তমান যুগে অক্ষয় তৃতীয়া কেবল ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ| সমাজে ˆবষম্য, দারিদ্র ও সংকট দূরীকরণে এই দিনের দান ও সহমর্মিতার চেতনা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে| সুতরাং এই দিনটিকে কেবল আচার আনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, মানব সেবার মাধ্যমে এর প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন|
পরিশেষে বলা যায় অক্ষয় তৃতীয়া হলো চিরস্থায়ী পূণ সমৃদ্ধি ও শুভ সুচনার প্রতিক| এই দিন আমাদের শিক্ষা দেয়-সৎ কর্ম, দান ও ভক্তির মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ করে তোলা| ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণ এই তিথির আদর্শকে ধারণ করাই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য| সুতারাং বলাই যায় যে, অক্ষয় তৃতীয়া শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় বরং এটি মানবতার, নৈতিকতার ও চিরস্থায়ী কল্যাণের এক মহৎ আহ্বান|
Leave a Reply