দিল্লির যন্তরমন্তরে আজ শনিবার (৬ জুন) প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতের জেন-জি নেতৃত্বাধীন অনলাইন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচিতে যোগ দিতে এরই মধ্যে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র অভিজিৎ দীপকে (৩০)।
সানডে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল প্রায় ৮টায় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন অভিজিৎ দিপকে। সেখান থেকে বিক্ষোভের জন্য অনুমতি নিতে তিনি সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
অভিজিৎ দিপকে রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছে বলেন, তিনি ‘যন্তর মন্তরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।’
খবরে বলা হয়েছে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যন্তর মন্তরে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি চাইতে থানায় যাচ্ছেন। এরই মধ্যে আন্দোলনের সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের সকাল ৯টা থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তিনিও এই আন্দোলনে যোগ দেবেন।
যন্তর মন্তরে পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে সিজেপির ডিজিটাল শাখার মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন যে, তারা আশাবাদী যে ‘এটা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দিন হবে।’
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (৬ জুন) যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য ডিজিটাল সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতির আবেদন তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য সমাবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
পরিকল্পিত এই বিক্ষোভের মূল দাবি হলো, এনইইটি-ইউজি, সিবিএসই, সিইউইটিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও কাঠামোগত অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ। যন্তর মন্তরে অনুমতি চাওয়া এই কর্মসূচিতেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের প্রথম বৃহৎ মাঠপর্যায়ের যুব আন্দোলনের আয়োজন করছে। অনলাইন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপভিত্তিক আন্দোলন থেকে বাস্তব রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে রূপান্তরের অংশ হিসেবেই এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা এনইইটি-ইউজি ২০২৬, সিইউইটি,এসএসসি জিডি এবং সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) মূল্যায়ন ব্যবস্থায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে ধরছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে দিপকে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ৬ জুন বোস্টন থেকে ভারতে ফিরবেন এবং বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করবেন।
গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেন ককরোচ জনতা পার্টি। সংবাদ সম্মেলন থেকে নেতারা এনইইটি, সিবিএসই ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফলের ত্রুটিসহ নানা বিতর্কের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
পাশাপাশি দাবি আদায়ে তারা শনিবার (৬ জুন) রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করে, এনইইটি, এসএসসি, সিবিএসইসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ব্যর্থতার জন্য সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে।
সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির শুরু হয় একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের কিছু অংশকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন।
রপর এটা একটা বড় যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যদিও এটা এখনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এরপরও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এর ফলোয়ারের সংখ্যা এরই মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। যা ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রায় দ্বিগুণ।
ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি একটি ওয়েবসাইটও চালু করে। তবে চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘তেলাপোকা দেখে তাদের এত ভয় কেন?’
Leave a Reply