পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক অসহায় ভিক্ষুকের কাছে ওষুধের দাম কম রাখায় প্রগতি মেডিকেল হল নামে একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন সমিতির নেতাদের চাপে দোকান মালিক সুদীপ্ত পাল গত শুক্রবার তাঁর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। মানবিক কারণে সাহায্য করতে গিয়ে ব্যবসায়ীর এমন হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক প্রগতি মেডিকেল হলে একটি ভিটামিন সিরাপ কিনতে আসেন। তাঁর কাছে ওষুধের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম টাকা থাকায় ফার্মেসি পরিচালক সুদীপ্ত পাল মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছুটা কম দামে তাঁর কাছে সিরাপটি বিক্রি করেন। এই খবর জানাজানি হলে উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন সমিতির নেতারা ক্ষিপ্ত হন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সুদীপ্ত পালকে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করলে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়। ফলে লোকসানের ভয়ে এবং সমিতির চাপে শুক্রবার পুরোদিন দোকানটি বন্ধ রাখা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, ফার্মেসি বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা সমিতি দেয়নি। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ফার্মসিটি ভেজাল ওষুধ বিক্রি করায় দায় স্বীকার করে নিজেরাই দোকান বন্ধ রেখেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দয়া দেখালে ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া উচিত ছিল, ১০০ টাকা রাখা ঠিক হয়নি। যদিও সমিতি কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ক্ষমতা রাখে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এদিকে স্থানীয় অন্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই সমিতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। ফাতেমা মেডিকেল হলের মালিক মোশাররফ হোসেন জানান, এর আগে ক্রেতার কাছে ওষুধের দাম কিছুটা কম রাখায় তাঁর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে এই সমিতি। এমআরপি বা গায়ের দামের চেয়ে সামান্য কমে ওষুধ বিক্রি করলে সমিতির নেতাদের রোষানলে পড়তে হয় বলে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত সমিতি বা সংগঠনের আইনত কোনো অধিকার নেই কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার। মানবিক কাজে বাধা প্রদান বা সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, মানবিকতার দায়ে যদি ব্যবসায়ীদের এমন মাশুল দিতে হয়, তবে ভবিষ্যতে দুস্থ মানুষের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাবে না।
Leave a Reply