নিজস্ব প্রতিবেদক:আকাশ কুমার মহন্ত
ঢাকার সাভার উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী পানপাড়া মহল্লায় উচ্ছেদের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অন্তত ৪২টি হিন্দু পরিবার। দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের এই মহল্লায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রায় ৯২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে বসবাসরত পরিবারগুলোর ওপর উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি উচ্ছেদের চেষ্টা ব্যর্থ হলে অন্তত ২৮ জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে মামলা দায়ের করা হয়। পরে সরকারি জরিপে প্রতিবেদন এলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানান অভিযুক্ত ব্যক্তি।
এলাকাবাসীর দাবি, তারা বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং জমির ওপর তাদের বৈধ অধিকার রয়েছে। বাসিন্দা বিকাশ বলেন, “এই জমিই আমাদের সবকিছু। এখন হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে—আমরা কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।”
শিখা রাজবংশী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই এখানে আছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এখানে ছিলেন। এখন এমন ভয় তৈরি হয়েছে যে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করাও কঠিন।”
চিত্ত রাজবংশী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা কাগজপত্র দেখতে চেয়েছি, কিন্তু কোনো দলিল দেখানো হয়নি। বরং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) দাবি করেন, জমিটি তার নিজস্ব এবং দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার সুযোগে অন্যরা তা দখল করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, “জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংখ্যালঘু বা সাধারণ নাগরিক—সবাই আইনের সমান সুরক্ষা পাবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাভার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মহব্বত কবীর বলেন, ভুক্তভোগীদের জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “উপজেলায় কোনো জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে পানপাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করছেন।
Leave a Reply