নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষণ সরকার
ময়মনসিংহের ভালুকায় পায়োনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির কর্মচারী নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ। মানবিক সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছি আমি অধ্যক্ষ হিরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস সাথে উপন্থিত আছেন অধ্যাপক অশোক তরু সাহা, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সস্মানিত সহ- মুখপাত্র সহকারী অধ্যপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী, এছাড়াও উপন্থিত আছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট এর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি এডভোকেট সুমন কুমার রায়, এডভোকেট সুশান্ত অধিকারী, প্রদীপ কান্তি দে, প্রসেনজিৎ কুমার হালদার, সাজেন কুষ্ণ বল, রাজেস নাহা, রনি রাজবংশি, সুশান্ত দাস গুপ্ত, সুদিপ্ত প্রামানিক, তিয়াশ সরকার, সৌরভ গাঙ্গুলি সকাল, অর্ক ধর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি ও সনাতনী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি পিংকু ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ সেন সহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ|
নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভ
বক্তারা জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি নৃশংস ঘটনা ঘটে। পায়োনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল দুর্বৃত্ত পিটিয়ে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়।
তারা বলেন, “এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মানবতা, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতির উপর একটি ভয়াবহ আঘাত।”
পরিবারের পাশে জাগরণ জোট
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে। তারা পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, মানসিক সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়।
২৬ জন আটক, তদন্ত চলমান
বক্তারা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং কেউই জামিন পাননি। মামলাটি বর্তমানে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে।
আর্থিক সহায়তা উদ্যোগ প্রশংসনীয়
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের কর্মস্থল প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের উদ্যোগকে প্রশংসা করে বলা হয়, “এই সহায়তা শুধু আর্থিক নয়, এটি একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদাহরণ।”
সরকারের কাছে ৪ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে চারটি দাবি জানানো হয়—
1. হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
2. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করা
3. গুজব ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া
4. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে—এটাই প্রত্যাশা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে মানবতা, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
Leave a Reply