প্রতিবেদক: নিজস্ব
সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক বাস্তব উদাহরণ—
একজন সাধারণ গ্রাম্য তরুণ কীভাবে নিজের প্রচেষ্টা, পরিশ্রম এবং সাহসিকতার মাধ্যমে সমাজসেবা ও ধর্মীয় অঙ্গনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে, তারই জীবন্ত প্রমাণ আকাশ কুমার মহন্ত।
২০০৪ সালের ১৩ই মার্চ, শান্তনা ও সুনীল দম্পতির কোলজুড়ে জন্ম নেওয়া এই তরুণের শৈশব কেটেছে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়া বড়শিমুলতয়া গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। গ্রামের দুর্গা মন্দিরের গীতা পাঠশালায় হাতেখড়ির মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার জীবনের মূল ভিত্তি।
পরবর্তীতে পরিবারের সাথে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পাড়ি জমান তিনি। সেখানেই শুরু হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন এবং স্কুল জীবন থেকেই যুক্ত হয়ে পড়েন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতা তখনই গড়ে ওঠে তার মধ্যে।
দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর পারিবারিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও থেমে থাকেননি—বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্লাটফর্ম তৈরি করে সেখান থেকেই শুরু করেন তার স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সনাতনী সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলন।
বিভিন্ন বাধা, সমালোচনা এবং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি তার পথচলা অব্যাহত রাখেন। সংখ্যালঘু অধিকার আদায়ে ৮ দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিলেন সামনের সারিতে।
এই সময়েই তার পরিচয় ঘটে বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘের সাথে। পীযুষ দাস ও বিধান সরকার অর্ঘ্যের হাত ধরে শুরু হয় তার সাংগঠনিক জীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। প্রথমে দিনাজপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে তার কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়।
মানবসেবার লক্ষ্য নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন “হিন্দু মহাসংঘ ব্লাড লাইফলাইন”—যার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ রক্ত পেয়ে নতুন জীবন লাভ করেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সংগঠনের কমিটি গঠন করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন সমাজ ও ধর্মের কল্যাণে।
একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে—সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম।
Leave a Reply