গরমের স্বস্তি পেতে বাজারে প্রচলিত অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় কিছুটা বেশি দাম দিয়ে ‘হায়ার’ (Haier) এসি কিনে এখন চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন গ্রাহকরা। নামী ব্র্যান্ডের তকমা গায়ে লাগিয়ে ব্যবসা করলেও মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক সন্তুষ্টির দিক থেকে ‘হায়ারের’ চিত্র এখন অত্যন্ত নাজুক। এসির ইনডোর ইউনিট লিক হওয়া, ইনস্টলেশনে জালিয়াতি, ফ্রি সার্ভিসের নামে প্রতারণা এবং গ্রাহকের অজান্তেই এসির যন্ত্রাংশ ভেঙে রেখে যাওয়ার মতো অসংখ্য অভিযোগ এখন তুঙ্গে।
মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী গ্রাহক গত সেপ্টেম্বরে একটি ১.৫ টনের হায়র এসি কেনেন। বিক্রয়োত্তর ২ বছরের ফ্রি সার্ভিসের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তিনি পেয়েছেন তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, সার্ভিসের জন্য কল দিলে কোম্পানি থেকে জানানো হয়—‘ভালো সার্ভিস’ পেতে হলে ১৩০০ টাকা দিতে হবে, আর ফ্রি সার্ভিস মানে কেবল ব্রাশ দিয়ে ওপর দিয়ে ধুলো ঝেড়ে দেওয়া।
হাসিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হায়ার একটি ভাওতাবাজি কোম্পানি। তারা সেল করার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু বাস্তবে মিল নেই। আনারি লোক দিয়ে তারা সার্ভিস করায়। হায়ারে ঝুঁকে কেউ দয়া করে ‘হায় হায়’ করবেন না।”
রিয়াদুজ্জামান রিদয় নামের আরেক গ্রাহক টেকনিশিয়ানদের অদক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। সার্ভিসিং করতে আসা কর্মী তার এসির ডান পাশের ৪টি সুইং ব্লেডের লক ভেঙে রেখে চলে গেছেন। রিয়াদুজ্জামান তখন বাসায় না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ধরতে পারেননি। দক্ষ জনবলের অভাব এবং কাজের প্রতি চরম অবহেলার কারণেই এমনটা ঘটছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
রেজা নামের এক গ্রাহকের অভিযোগ আরও গুরুতর। তার ‘এনার্জিকুল’ এসি ইনস্টল করার সময় টেকনিশিয়ানরা কোনো ভ্যাকুয়াম (Vacuum) করেনি। প্রশ্ন করলে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেন, “কোম্পানি থেকেই ভ্যাকুয়াম করা থাকে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক R32 বা R410A গ্যাস সমৃদ্ধ এসিতে ভ্যাকুয়াম না করলে ভেতরে আর্দ্রতা ও বাতাস থেকে যায়। এতে কুলিং কমে যায় এবং বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বাড়ে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, কম্প্রেসারের ভেতরে অ্যাসিড তৈরি হয়ে যেকোনো সময় বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
মুস্তাফিজুর রহমান রাহাত ২০২৩ সালে এসি কিনেছিলেন, যার ইনডোর ইউনিট লিক হয়ে গেছে। ৫০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দেওয়ার পরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি হতাশ। তার দাবি, ফ্রি সার্ভিসের নামে টেকনিশিয়ানরা কেবল সামনের অংশ ধুয়ে দিয়ে যায়, পেছনের মূল ময়লাগুলো পরিষ্কার না করেই ‘আইওয়াশ’ দিয়ে কাজ শেষ করে।
ওয়াশিফ খান নামক আরেক গ্রাহকের অভিজ্ঞতা আরও বিচিত্র। এসি ফিটিংয়ের সময় দেওয়ালে করা ছিদ্রে ‘পুডিং’ (Putty) ব্যবহার না করায় সেই ফাঁক দিয়ে এসির ভেতরে ইঁদুর ঢুকে মোটরের তার কেটে ফেলেছে। বারবার কল দিলেও টেকনিশিয়ানরা এই সামান্য পুডিংটুকু ব্যবহার করেনি। ফলে একদিকে যেমন ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে, অন্যদিকে বৃষ্টির পানি দেওয়াল চুইয়ে ঘরের ভেতরে পড়ছে।
হায়ারের অফিসিয়াল সার্ভিস এবং টেকনিশিয়ানদের অদক্ষতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। ইনডোর ইউনিট লিক হওয়া থেকে শুরু করে ইনস্টলেশনে জালিয়াতির মতো গুরুতর বিষয়গুলো এখন গ্রাহক ক্ষোভের প্রধান কারণ।
Leave a Reply