ঢাকা জেলা প্রতিনিধি : আকাশ কুমার মহন্ত
সরকার পরিবর্তন হয়, নীতিনির্ধারণে আসে নতুন মুখ; কখনো নির্বাচিত সরকার, কখনো অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন-তবুও রাজনীতির প্রভাব থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশের ক্রিকেট। বারবার প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সম্প্রতি বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ক্রিকেটাঙ্গনে।
নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রধান করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। তিনি এর আগে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ, ইসরাফিল খসরুসহ বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান এবং ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এনএসসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অ্যাডহক কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বিদায়ী বোর্ড। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনিই এখনো বিসিবির বৈধ সভাপতি। ফলে প্রশাসনিক এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে দ্বৈত অবস্থান।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনে বারবার রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ দেশের ক্রিকেটের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন প্রত্যাশা করছেন-রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল প্রশাসনের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।
Leave a Reply