1. admin@sanataninews24.com : admin :
       
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদের শিরোনাম

‘বৃষ্টির মতো কিল, ঘুষি, লাত্থি… যে যেভাবে পেরেছে মেরেছে’

  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়েছেন

প্রতিবেদক: সাগর দাস

রাজধানীর শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে হামলার শিকার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেছেন, থানায় ঢুকতেই কোনো ধরনের কথাবার্তা, উসকানি ছাড়াই হামলে পড়ে আমাদের ওপরে। বৃষ্টির মতো কিল, ঘুষি, লাত্থি… যে যেভাবে পেরেছে! অথচ আমি জানিই না কেন আমাকে মারা হচ্ছে!!

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টটি হুবহু দেওয়া হলো :

‘প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ,

শাহবাগ থানায় আমরা কোনো ঝামেলা করতে যাইনি। গিয়েছি আমাদেরই ক্যাম্পাসের এক শিক্ষার্থীর জন্য।

যে কিনা একটা মিথ্যা ফটো কার্ডের ভিক্টিম হয়ে হত্যার হুমকি পেয়ে থানায় গিয়েছিলো জিডি করতে। সেখানে তাকেসহ তার সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ঝামেলা করে ছাত্রদল। সূর্যসেন হল সংসদের সদস্য ছোটভাই আলভিকে বেধড়ক মারধর করে।
আমরা ডাকসুর প্রতিনিধি।

শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধায় আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকেই আরো কয়েকজন ডাকসুর সম্পাদক সহ আমরা থানায় যাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধান করার জন্য। ওই ছেলে আসলেই অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। আর না হলে ছেড়ে দেওয়া হোক।

এই সমাধানের চিন্তা নিয়ে থানায় গিয়েছি। না গেলে হয়ত আপনারাই বলতেন, ডাকসু কী করে!
বাকিটা দেখলেনই। থানায় ঢুকতেই কোনো ধরনের কথাবার্তা, উসকানি ছাড়াই হামলে পড়ে আমাদের ওপরে। বৃষ্টির মতো কিল, ঘুষি, লাত্থি… যে যেভাবে পেরেছে! অথচ আমি জানিই না কেন আমাকে মারা হচ্ছে!!

যা-ই হোক, এই ঘটনা নিয়ে গ্রুপে লেখালেখি হলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু শিক্ষার্থী দেখলাম মারধরকে অ্যাপ্রিশিয়েট করছে! মকারি করছে আমাদের নিয়ে। আমার চশমা কুকুরকে পড়িয়ে মজা নিচ্ছে৷ কমেন্ট সেকশনে বাহবা দিচ্ছে আমারই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা!

প্রিয় ভাইবোনেরা, যারা আমাদেরকে মারধর করাটা সমর্থন করছেন, আপনারা যদি দলান্ধ হোন তাহলে কিছু বলতে চাই না৷ কিন্তু যদি বিবেকবান দাবি করেন তাহলে শুনে রাখেন, জুবায়ের-মুসাদ্দিক তাদের নিজেদের কোনো স্বার্থে সেখানে যায়নি।
চাইলে ওই শিক্ষার্থীর বিপদে চোখ বন্ধ করে স্কিপ করে যেতে পারতো। কিন্তু করে নাই, জীবনের ঝুঁকি নিয়েও ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ওত পেতে থাকা ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের মধ্যে গিয়েছে তার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সাথে হওয়া অন্যায়ের সুরাহা করতে।
জুবায়ের-মুসাদ্দিকের এই লড়াইটা আজকের না। হাসিনার আমল থেকেই গেস্টরুম, গণরুম, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভোকাল ছিলো তারা। ছাত্রদল সেদিন যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজনীতি প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে, তার বিরুদ্ধে জুবায়ের-মুসাদ্দিকের লড়াইটা তাদের নিজেদের স্বার্থে না। তাদের অনার্স শেষের পথে। চুপ করে অন্যায়টা সহ্য করে ভালোয় ভালোয় ক্যাম্পাস ত্যাগ তারাও করতে পারতো। কিন্তু সেই পথ তারা বেছে নেয়নি। কেন নেয়নি জানেন?

গতকাল আমাকে যখন চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে মারধর করা হচ্ছে, আমি ভিড়ের মধ্যে আমার কিছু কাছের ছোটভাইয়ের মুখ দেখতে পেয়েছি। এমন ছোটভাইরাও ছিলো যাদেরকে সেফ করতে গিয়ে একসময় ছাত্রলীগের হাতেও লাঞ্ছিত হয়েছিলাম। আমার এমন ছোটভাইরা যাদেরকে নানা সময়ে নানাভাবে সাহায্য করেছি আমি। নিঃস্বার্থ ভাবেই ভালোবাসতাম ছোটভাইগুলোকে। আর সেই ছোটভাইয়েরা গতকাল আমাকে আঘাত করেছে। মার খেয়ে আমি কাঁদি নাই। কিন্তু হামলাকারীদের মধ্যে আমার ছোটভাইগুলোকে দেখে আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই।

আমাদের লড়াইটা এই রাজনীতির বিরুদ্ধেই। যেই রাজনীতি এভাবে সিনিয়র জুনিয়রের মধুর সম্পর্কটাকে শত্রুতায় রূপ দেয়। আমাদের লড়াইটা একটা সুন্দর ক্যাম্পাস গঠনের। অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নাই।

প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইবোনেরা, বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমার লড়াই আমি চালিয়েই যাব।

কিন্তু, আল্লাহ না করুক, যদি আমাদের ক্যাম্পাসটা আবারো কোনোদিন গণরুম, গেস্টরুমের কালচারে ফিরে আসবে সেদিন বুঝবেন কেন এই এবি জুবায়ের-মুসাদ্দিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কথা বলে গিয়েছে, লড়াই করে গিয়েছে। আল্লাহ সেই দিন না আনুক। বাট আনলে আপনারা এটা অনুভব করবেন আমি লিখে দিয়ে গেলাম।

ভালো থাকুন।’

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় খরব আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2026 Sanatani Research & IT Limited
Designed By Barishal Host