লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানের তালা ভেঙে সিন্দুক চুরির পর নিখোঁজ নৈশপ্রহরীর মরদেহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় নৈশপ্রহরীকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে গেছে চোরচক্র।
নিহত ফরিদের বয়স ৪৪ বছর। তিনি রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার মিজি বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। ফরিদ রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার এলাকা পর্যন্ত নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শুক্রবার গভীর রাতের কোনো এক সময় রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজারে অবস্থিত ‘নিউ আপন শিল্পালয়’ নামক দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার সকালে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে হাত-পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ফরিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে চোরের দলটি এসেছিল। তারা দোকানের শার্টারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং অলংকারসহ পুরো সিন্দুকটি তুলে নিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রূপন শীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি অতি কষ্টে ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। দোকানের সোনা ও রূপার অলংকারসহ সিন্দুকটি চুরি হওয়ায় তিনি এখন নিঃস্ব। তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পরিদর্শক ইমারত হোসেন জানান, সকালে অজ্ঞাত হিসেবে ফরিদের মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ওসি আরও জানান, চুরির ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে কত টাকার মালামাল চুরি হয়েছে তা নিরূপণের কাজ চলছে। পুলিশ বাজারের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় চুরির পাশাপাশি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply