দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই ঘাতক রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতটি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৬৬১ জনের শরীরে হাম ও এর তীব্র উপসর্গ শনাক্ত করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হামবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতটি শিশুর মধ্যে তিনজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্য দিকে বাকি চারটি শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
একই সময়ে দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪২৩টি শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২০৮ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই নতুন আক্রান্তদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৭৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হাম ও এর বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৪৬ হাজার ৪০৭টি শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৪২ হাজার ৩৩৬টি শিশু।
চলতি মৌসুমের এই নির্দিষ্ট সময়ে কেবল হামের উপসর্গে ভুগে মারা গেছে ৪০৫ জন। আর ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ জনে, যা শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a Reply