মামলার ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ হাজারে। তবে এই চাপের মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, যা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার মোট সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪৬টি। এর মধ্যে জজশিপে দেওয়ানি মোকদ্দমা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলি ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০টি মামলা। জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে সাতক্ষীরা জজ আদালতে নতুন করে ১৬টি আদালত সৃষ্টি করে বেশ কিছু বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তা পূর্ণতা পায়নি।
তারা আরও বলেন, মামলার সংখ্যা বাড়লেও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আরও বাড়ানো গেলে বিচারপ্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ ও গতিশীল হবে।
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ যখন মামলার ভারে জর্জরিত, তখন লিগ্যাল এইড অফিসই হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের একটি কার্যকর ও আশাব্যঞ্জক প্ল্যাটফর্ম।
এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু মামলা ২ হাজার ৫২২টি, শিশু মামলা ৬২৬টি, মানব পাচারসংক্রান্ত ১৫১টি এবং পিটিশন মামলা ১০৪৩টি বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইবুনালেও রয়েছে ১৫০ টি মামলা।
এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার আশঙ্কা থাকলেও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের এবং ১৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) আবেদন গৃহীত হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৬১টি সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এডিআরের মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় করে বাদী পক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এছাড়া লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১ হাজার ১০৬ জন নারী ও ৩৭৬ জন পুরুষকে আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৫ জনে।
আদালত, জেলা কারাগার, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে, যা এই সেবার ব্যাপকতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে এবং বিচার বিভাগের ওপর চাপও কমবে।
Leave a Reply