মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে কারাগার থেকে ৫ ঘণ্টার জন্য পুণ্ডরিক ধামে আনা হয়েছিল চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে। মায়ের শেষ বিদায়ের পর আবারও তাকে নেওয়া হচ্ছে কারাগারে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে হাটহাজারীর পুণ্ডরিক ধামে পৌঁছান চিন্ময়। তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক গাড়ি অবস্থান নেয়। সেখানে প্রায় ১৪টির বেশি পুলিশের গাড়ি দেখা যায়।
পুণ্ডরিক ধামে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে শিব মন্দিরে প্রণাম করেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। এরপর শ্রীল পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের মন্দির, রাধাকৃষ্ণ মন্দির, কাত্যায়নি মন্দির, শ্রীল প্রভুপাদের মন্দির, গিরি গোবর্ধন মন্দির ও সর্বতীর্থ মৃত্তিকা পরিক্রমা মন্দিরে প্রণাম করেন। পরে হরিস্নান করেন তিনি। এরপর মায়ের শেষকৃত্যের জন্য তাকে সমাধিস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মায়ের মরদেহের কাছে যাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন চিন্ময়। অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। তাকে ঘিরে থাকা অনুসারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আবেগ। অনেক ভক্ত ও অনুসারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
এরই মধ্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে। শুরু হয় বৃষ্টি। কান্না আর বৃষ্টির মধ্যে মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আবারও কারাগারের পথে রওনা হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ।
পুণ্ডরিক ধামে এ সময় ভক্তদের ভিড় থাকলেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে মায়ের সৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য চিন্ময়ের পক্ষে তার ভাই রঞ্জন কুমার ধর আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্ময়কে মুক্তির সময় থেকে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
আদেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
Leave a Reply