কোতয়ালী থানা এলাকায় সংঘটিত মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংস ভাবে ষাটোর্ধ মহিলা সকিনা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ মূল অভিযুক্ত নারী আটক।
অত্র মামলার বাদী মোঃ শহিদুল ইসলাম কোতয়ালী থানায় হাজির হয়ে তার মা নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে তিনি বাসায় গিয়ে তার বাসার সামনে একটি বস্তার ভিতর তার মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে সাথে সাথে পুলিশকে সংবাদ দেন। সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোর ও কোতয়ালী থানা, যশোরের টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমের ছেলের বউ মরিয়ম (২০) এর আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় মরিয়ম এর সংশ্লিষ্টতা আছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় হত্যার মূল রহস্য উম্মোচনের জন্য মরিয়ম (২০) কে ডিবি অফিসে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে একেক সময় একেক ধরনের কথা বলে এবং ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করে। তবে অভিযুক্তকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করায় এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা তার সামনে বার বার উপস্থাপন করে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মরিয়ম ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায় তার শ্বাশুড়ি তাকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়শ বকাঝকা করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পারিবারিক বিষয়ে তাকে পুনরায় বকাবকি করায় সে বিরক্ত হয়ে ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে তার শ্বাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করে এবং আলামত গোপন করার জন্য ভিকটিমের লাশ বস্তাবন্দি করেছিল এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়্যারড্রোপের ভিতর লুকিয়ে রাখে । পরবর্তীতে আভিযুক্তের দেখানো মতে তার ঘরের ওয়্যারড্রোপের ভিতর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীণ।
আসামীর নাম-ঠিকানাঃ
১। মরিয়ম বেগম (২০)
স্বামী-শহিদুল ইসলাম, পিতা-মৃত জাকির হোসেন, মাতা-মৃত বুলবুলি বেগম
স্থায়ী ঠিকানা-বনানী রোড, বুনো পাড়া, বেজপাড়া, থানা কোতোয়ালী মডেল জেলা যশোর।
বর্তমান ঠিকানা- বেজপাড়া মেইন রোড, মহসিন উকিলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ওয়ার্ড নং ৮ থানা-কোতোয়ালি মডেল,জেলা যশোর।
উদ্ধারঃ
০১। হত্যায় ব্যবহৃত ০১(এক) টি চাপাতি।
প্রতিনিধি: স্বরুপ বিশ্বাস যশোর
Leave a Reply