চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গীতা পাঠ ও মহোৎসব অনুষ্ঠানে একদল কিশোর গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন এবং পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। গত শুক্রবার উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের গলাচিপা খামার পাড়া এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও আয়োজক কমিটির সূত্র থেকে জানা যায়, খামার পাড়া এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গীতা পাঠের অনুষ্ঠান চলাকালে পার্শ্ববর্তী মধ্যটিলা ত্রিপুরা পাড়া থেকে আসা একদল কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা সেখানে উপস্থিত মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করলে আয়োজক কমিটির সদস্যরা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে খামার পাড়া সমাজের সর্দার সেকান্ত ত্রিপুরা ও অন্যান্যরা মধ্যটিলা সমাজের সর্দার নিকেন্দ্র ত্রিপুরার কাছে যাওয়ার সময় পুনরায় অতর্কিত হামলার শিকার হন।
কিশোর গ্যাংয়ের এই বেপরোয়া হামলায় খামার পাড়া এলাকার রূপ কুমার ত্রিপুরা, পঞ্চ কুমার ত্রিপুরা, রিফন ত্রিপুরা, সহেল ত্রিপুরা, আলোমতি ত্রিপুরা এবং মধ্যটিলা সমাজের গৃহিণী পুকতি ত্রিপুরা গুরুতর আহত হন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোহন ত্রিপুরা ও পরেশ ত্রিপুরার নেতৃত্বে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এই হামলায় সরাসরি জড়িত হিসেবে শিপন, রাজীব, তপু, তাজেল ও অজিতসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন এলাকাবাসী।
মধ্যটিলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বৈশ্য কুমার ত্রিপুরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এর আগেও এই কিশোররা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা প্রথমে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন, তবে সমাধান না হলে কঠোরভাবে আইনের আশ্রয় নেবেন। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার শঙ্কা বিরাজ করছে।
Leave a Reply