যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তার ছেলে ইমরানকে চিকিৎসার জন্য আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই স্যালাইনের সঙ্গে এবং হাতে লাগানো ক্যানুলার মাধ্যমে একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।
অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার ছেলে চিৎকার করতে শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান। এরপর মৃত অবস্থায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছে এসে মৃত্যুর খবর জানায়।
শওকত আলী বিশ্বাস অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় শত শত মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা চিকিৎসকদের উপস্থিত করে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং চিকিৎসা অবহেলার বিচার চান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকেই হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টার দিকে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৩০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেন। তাদের দাবি ছিল, রোগীর চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসকদের সামনে এনে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন বলেন, তাদের কোনো ভুল নেই। নিয়ম অনুযায়ী ইমার্জেন্সিতে ইমরানকে দেখা হয়েছে। এরপর তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও দেখেছেন। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছিলেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতের স্বজনদের বিক্ষোভ চলছিল এবং তারা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
Leave a Reply