ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির ঈদের দিন মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাতদিন পর নারায়ণ সরকার (৫০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নিকড়া চক এলাকার আড়িয়াল বিলের একটি ডাঙার পূর্ব পাশের জমিতে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নারায়ণ সরকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় বক্সনগর চৌরাহাটি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি থাই গ্লাস ও কাঠের কাজের মিস্ত্রি ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় কর্মরত ছিলেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গত মাসের ২৬ তারিখ তিনি বাড়িতে ফেরেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন সকালে বড় বক্সনগর গ্রামের জগদীশ সরকার (৪৭)-এর সঙ্গে নিকড়ার আড়িয়াল বিলের ডাঙায় মাছ ধরতে যান নারায়ণ সরকার। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন শুক্রবার নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্ত্রী চম্পা রাণী সরকার।
পরবর্তীতে স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ এনে রবিবার দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
নিখোঁজের সাতদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় আড়িয়াল বিল এলাকায় খোঁজ করতে গেলে নিকড়া চক এলাকার একটি ডাঙার পূর্ব পাশে জমে থাকা পানিতে ভাসমান অবস্থায় নারায়ণ সরকারের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু হানিফ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের স্ত্রী যেদিন মামলা দায়ের করেন, সেদিন রাতেই এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply