নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে মিলন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ও তার মাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার ৩ জুন দুপুরে উপজেলার দলপা কান্দাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিলন মিয়া ওই গ্রামের মৃত আমজাত আলীর ছেলে। আটকৃতরা হলেন একই গ্রামের মোমেন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া (২১) এবং তার মা হাফিজা বেগম (৪৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিলন মিয়ার কাছে ইমন মিয়ার ২ হাজার টাকা পাওনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ না করায় এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাফিজা বেগম পাওনা টাকা চাইতে মিলনের বাড়িতে যান। এ সময় টাকা পরিশোধের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইমন মিয়া ঘটনাস্থলে এসে মিলনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ধারালো দা দিয়ে ইমন মিয়া মিলনের গলায় কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মা-ছেলেকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে মিলনকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল-এ পাঠানো হলে দুপুর ২টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিলনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত ইমন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
Leave a Reply