লক্ষ্মীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে ইনজেকশন পুশ করে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিনমজুর তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিশু জাহিদকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশের ভয়ে অভিযুক্ত তিন যুবক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন নির্যাতিত শিক্ষার্থী জাহিদের মা জাহেরা বেগম। তিনি ছেলের ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
জাহিদ সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের জামিয়াতুল আব্রাহ হেফজ মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ মে রাতে চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সায়েরা বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই বেড়ির ওপর থেকে জাহিদকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং চোর অপবাদ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার বাম হাতে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করা হয়। পরে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।
এরপর জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাদ্দাম, জুয়েল ও হৃদয়সহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে ২৪ মে সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় জাহিদকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশু জাহিদ দাবি করে, তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং ইনজেকশন পুশ করার পর সে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল না। চাপের মুখে নির্যাতনের সময় তিনি কয়েকজনের নাম বলেন বলে দাবি তার।
অন্যদিকে মামলার আসামি সাদ্দামের মা রোকেয়া ও স্ত্রী রিমু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাদ্দাম একজন দিনমজুর। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
মামলার বাদী মমিন উল্লাহ বলেন, ‘আমার মেয়ের বাড়িতে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে চুরি করতে হানা দেয়। আমার মেয়ে সায়েরা বেগমকে রক্তাক্ত জখম করে। আমি এই ঘটনায় মামলা করেছি। আমি তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার দাবি করছি।
Leave a Reply