প্রতিনিধি:স্বরুপ বিশ্বাস যশোর।
যশোর জেলার ভবদহ এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকায় টেকসই পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)-এর উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-এর সহযোগিতায় যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে “যশোর জেলার ভবদহ এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকার পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা” শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোক্তার আলী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি এবং বাপাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) মোঃ রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাছরিন আক্তার খান। পরে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-এর পক্ষে সমীক্ষা প্রকল্পের উপস্থাপনা করেন সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান।
কর্মশালায় জানানো হয়, ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অতীতে টিআরএম (Tidal River Management – TRM) কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরে ২০টি পাম্প স্থাপন করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়।
বর্তমান সমীক্ষার আওতায় যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকায় নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নদী খনন, অতিরিক্ত পাম্প স্থাপন, পাইলট চ্যানেল খনন, টিআরএম কার্যক্রম পুনরায় চালু, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্ত করা এবং ভবদহ রেগুলেটরকে সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করা।
এছাড়াও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের জন্য নতুন সংযোগ খাল নির্মাণ, রেগুলেটর মেরামত ও নতুন অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সমীক্ষার সুপারিশসমূহ আরও পরিমার্জন করা হবে বলে জানানো হয়।
Leave a Reply