নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গরু প্রতিবেশীর গাছের চারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সমাজ-সহিলদেও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম তোতা মিয়া (৪০)। তিনি মিয়া সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় কৃষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় হাওর থেকে গরু নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন তোতা মিয়া। পথে তাঁর একটি গরু প্রতিবেশী রবি মিয়ার চোকাইগাছের চারা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে তোতা মিয়া ও রবি মিয়ার মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবি মিয়া রাগ করে তোতা মিয়ার একটি পেঁপেগাছ কেটে ফেলেন।
এর জের ধরে দুজন তুমুল ঝগড়ায় জড়ান। একপর্যায়ে রবি মিয়া ধান বহনের কাজে ব্যবহৃত দুই পাশ সুচালো লম্বা বাঁশ (বারবাঁশ) দিয়ে তোতা মিয়ার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তোতা মিয়াকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গতকাল সকালে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান।
ওই গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, গরু গাছের চারা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়া হয়। পরে প্রতিপক্ষের আঘাতে তোতা মিয়ার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন রবি মিয়া। তাঁর মুঠোফোন সংযোগও বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পলাশ মিয়া বলেন, ‘বাঁশের সুচালো অংশ বুকে বিদ্ধ হওয়ার কারণেই তোতা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ সোমবার ময়মনসিংহে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রবি মিয়া পলাতক। তাঁকে আটক করার চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply