নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গত এক মাসে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ৩ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ১১ জন, বুধবার ৭ জন এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরও ৬ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। মাত্র তিন দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন।
আহতরা কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া অনেকেই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ধারাবাহিক এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুলাল দাপ্তরিক কাজ শেষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বের হয়ে চা বাগান এলাকায় পৌঁছালে একটি পাগলা কুকুর তাকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে কুকুরটি তার বাম হাতে কামড় দেয়। এতে তার বাম হাতের দুটি আঙুলের মাংস ছিঁড়ে যায়। তিনি জানান, তাকে কামড় দেওয়ার আগে একই কুকুর কেশবা গ্রামে আরও ১০ জনকে কামড় দেয়।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ে আহত রোগীরা জলাতঙ্কের টিকা নিতে হাসপাতালে আসছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৩ জন চিকিৎসা ও টিকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালের ইপিআই স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত এক মাসে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, জেলা সদর ও রংপুরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের যুক্ত করলে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ শতাধিক হতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কুকুরের কামড়ে আহত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কুকুরের কামড়ের ধরন অনুযায়ী আক্রান্তদের তিন বা চার ডোজ জলাতঙ্কের টিকা নিতে হয়। সময়মতো টিকা না নিলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply