সনাতনী নিউজ ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও মেম্বার মো. ইউসুফ আলী এবং তার ভাই মো. বনি মিয়ার বিরুদ্ধে। উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নাপিতেরচর গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের পৈত্রিক জমি দখলকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) থেকে ইউসুফ মেম্বার ও তার দলবল লাঠিসোটা নিয়ে পুনরায় জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু করে। এর আগে থেকেই চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর রাতে হুমকি-ধমকি ও নানা চক্রান্ত চালিয়ে আসছিল অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছিল।
দখলদারিত্ব বন্ধে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ফরিদপুর ইউনিয়ন বিএনপিকে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিন দ্বারা জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি বসিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, গত ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাতে ইউসুফ মেম্বার তার দলবল নিয়ে সেই সীমানা খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলে দেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। তারা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার তাদের বসতভিটা ও জমি কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ইউসুফ মেম্বারের এহেন কর্মকাণ্ডে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সচেতন মহল কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলমের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টির মাধ্যমেই এই অন্যায়ের অবসান ঘটবে এবং পরিবারটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
Leave a Reply