রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, শোক র্যালি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রংপুর জিলা স্কুলের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রথমে মানববন্ধন ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী ও ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তীর সঙ্গে ওই দুই যুবকের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত বক্তব্যের কয়েকটি বিষয় নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু প্রাথমিক তদন্তের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে হত্যাকাণ্ডের সব দিক খতিয়ে দেখে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আইনের আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও চারজনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পুলিশের দেওয়া তদন্তের বক্তব্যের কিছু বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিহত চার সনাতনী পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
Leave a Reply