রাজধানীর আদাবরের ১০ নম্বর খাল থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ড-বিখণ্ড নারীর লাশের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে আদাবর থানায় মামলাটি করা হয়। তবে আজ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এখনো কেউ লাশের দাবি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকাল ৫টার দিকে আদাবর ১০ নম্বর হাক্কার মোড় এলাকার খাল থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে মাথা ও দুই হাত এবং একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে শরীর ও দুই পা উদ্ধার করা হয়। মোট ছয় টুকরা অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।
পরিচয় শনাক্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা গিয়ে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত নারীর বয়স ১৮ বছরের কম বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে তার তথ্য না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, মরদেহটি অন্য কোনো স্থান থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। খালটিতে ময়লা-আবর্জনা থাকলেও পানির স্রোত রয়েছে। ফলে কয়েক দিন আগে অন্য কোথাও ফেলে দেওয়া মরদেহটি ভেসে ওই এলাকায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় বা লাশের দাবি নিয়ে কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে এ ঘটনায় আদাবর থানায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহটি কোথা থেকে এসেছে এবং কারা হত্যার সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আদাবর থানার এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে
Leave a Reply