রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) রাস্তার কাজের জন্য ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা জিসান আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কর্পোরেট ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্বত্বাধিকারী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে জিসান আহমেদ অর্থ দাবি ও গ্রহণ করেছেন। পরে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ গ্রহণেরও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সমর্থনে অডিও রেকর্ড, ওয়াটসআপ কথোপকথন, ব্যাংক ও বিকাশ লেনদেনের রসিদ এবং আর টি জি এস সংক্রান্ত নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে টাকা দাবি ও গ্রহণ করেছেন জিসান আহমেদ। রাস্তার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর অতিরিক্ত কাজ দেওয়ার বিনিময়ে প্রকল্প পরিচালক জিসান আহমেদের জন্য ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণ অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেও বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাস্তার কাজের সাইটে শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার কারণে তারা ১৫ দিনের বেশি সেখানে অবস্থান করতে পারেননি।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, রাস্তার ঢালাইয়ের কাজের আগে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক জামালকে গত ১৯ জুলাই বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে দেখা করতে বলেন জিসান আহমেদ। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৫টা ৫ মিনিট থেকে ৫টা ১৫ মিনিটের মধ্যে উপাচার্য দপ্তরের সামনে এসে ২ লাখ টাকা না দিলে রাস্তার ঢালাই দেওয়া যাবে না বলে জানান তিনি এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, উপাচার্য দপ্তরের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ওই সময়ের ঘটনা ধারণ করা হয়েছে। পরে বিকেল ৫টা ২৪ মিনিটে ফোন করে জিসান আহমেদ ওই শ্রমিক জামালকে আবারও হুমকি দেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ঠিকাদারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, নিয়মিতভাবে প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আদায়ের বিষয়ে এর আগেও উপাচার্যকে বিভিন্ন প্রমাণ দেখানো হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে ছয় ধরনের নথি সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অর্থ দাবির অডিও রেকর্ড, অনুষ্ঠান/প্রোগ্রাম সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৬০০ টাকার হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট, ৩০ হাজার টাকার ব্যাংক ও বিকাশ লেনদেনের রসিদ, ৫ লাখ টাকার আর টি জি এস ফরম, মোটরসাইকেল ক্রয়ের অর্থ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিশান আহম্মেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ বরাবরের মতনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। আমি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডিকেও ঠিকাদার কতৃক আমার মানহানীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। কে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কার কাছ থেকে টাকা নেয়, এসব তো আমার দেখার বিষয় না। বরং এই ব্যাপারে পিডি কি স্বীকার করেছেন যে, তিনি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে উক্ত ঠিকাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চেয়েছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার নামের সাথে জড়িত এসব মিথ্যা অভিযোগ ঘৃণাভরে অস্বীকার করি।’
এ বিষয়ে কর্পোরেট ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্বত্বাধিকারী শেখ দিদার বলেন,‘আমি ছাত্রদলের জিসান আহমেদ কতৃক ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের দপ্তরে একটি অভিযোগ করেছি, এখনো অভিযোগের বিষয় নিয়ে কোন অগ্রগতি জানতে পারিনি। রাস্তার কাজের বিষয়ে আমি যথেষ্ট আন্তরিক ছিলাম শুরু থেকেই কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রকল্প পরিচালক বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও আমাদের চলতি বিলটি দেয়নি, এরমধ্যে উপাচার্য মহোদয়কে আমাদের আর্থিক সংকটাপন্ন অবস্থার কথা অবহিত করা হয়েছে।’
এদিকে, গত শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে জিশান আহম্মেদ ও শেখ দিদারের একটি ফোনালাপের রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ২৭ জুলাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জিশান আহমেদের রাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। পদ স্থগিত হলেও রাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন প্রোগ্রামে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে তাকে।
উল্লেখ্য, পরিবহন সংকট ও সড়কের কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার জেরে হোয়াটসঅ্যাপ কলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাঙ্গামাটি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জিশান আহমেদ। হুমকির ঘটনায় রাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল বিবৃতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
Leave a Reply