নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মের দেবদেবী ও ধর্মীয় বিশ্বাস অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বুটেক্স কেন্দ্রীয় উপাসনালয় পরিচালনা পরিষদ। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তারা গীতার উদ্ধৃতি, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অভিযোগটি বুটেক্সের এফই-৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সামিমকে ঘিরে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাস্যকে অবমাননা কোনো ধর্মের মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। বুটেক্স একটি অসাম্প্রদায়িক ও দায়িত্বশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে চার দফা দাবি জানিয়েছে বুটেক্স কেন্দ্রীয় উপাসনালয় পরিচালনা পরিষদ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, প্রমাণ ও তথ্য যাচাই করে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ; অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে গুরুতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার এবং হল-সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে শহীদ আজিজ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হলের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো ধর্মের অবমাননা সমর্থন করা হয় না এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ, উসকানি বা অসম্মান কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রতিকার সাংবিধানিক ও আইনানুগ পদ্ধতিতে করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুটেক্স প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিষয়টিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে না দেখে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
Leave a Reply