মাদারীপুরের শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েসংলগ্ন বাখরেরকান্দি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলা থেকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ দুপুরে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহউদ্দীন কাদের।
তিনি জানান, গত বুধবার উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার বিপরীতে একটি পরিত্যক্ত স্থানের ঝোপ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। নিহতের নাম শাম্পা খাতুন। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।
নিহতের বাবার বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার সালাহউদ্দীন কাদের জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড় মেহের এলাকার ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শাম্পার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বুধবার শাম্পার মরদেহ উদ্ধারের খবর পেলেও তার ছেলে আবিরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে শিবচর থানা-পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ফারুককে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত পোড়ানো ওড়না, নাকফুল, গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ফারুক খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার রতন মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। এর আগে চোরাই গাড়িসহ আটক হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দীন কাদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি নিহতের এক বছর বয়সী সন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার কথাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর শাম্পাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে মরদেহ ভারী হওয়ায় বাড়ির পাশের ঝোপে ফেলে রাখা হয়।
এসময় নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
Leave a Reply