নিজস্ব প্রতিবেদক
শরীয়তপুরে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভুক্তভোগীদের সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি জাকির হোসেন, ইমরান আল নাজিরসহ কয়েকজনকে মিলনায়তনের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাইরে যাওয়ার পরও জাকির হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি একজন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা এবং আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে তাকে ও অন্যদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার দাবি, ইমরান আল নাজিরসহ কয়েকজন এনসিপি নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন এবং অনুষ্ঠানেও একই ধরনের মন্তব্য করছিলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আহত জুলাই যোদ্ধা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply