1. admin@sanataninews24.com : admin :
       
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদের শিরোনাম
এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদসহ আটক ১ সীতাকুণ্ডে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো বাসের যাত্রীদের চাপা দিল লরি, নিহত ৫ আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় তরুণী, গাড়িতে তুলতে টানাটানি পরিবারের লক্ষ্মীপুরে মাদকবিরোধের জেরে যুবক খুন ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আকুতির পরই নিথর দেহ, বরিশালে মনির ফকিরের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘুস না পেয়ে থানার মধ্যেই আসামির ভাইকে মারধরের অভিযোগ ভিক্ষা করে ছেলের চিকিৎসা করাইছি, এখন খোঁজও নেয় না : হাফেজ তাশরীফের বাবা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩ হিন্দু বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ খুলনায় দোকানে বসে থাকা মুদি ব্যবসায়ীকে গুলি, আহত ২

গুদাম ঘেরাও করল এলাকাবাসী, তালা খুলে ৫৫৩ বস্তা নষ্ট সার পেল প্রশাসন

  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়েছেন

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি গুদামে জমাট বাঁধা হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়া করার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ৫৫৩ বস্তা সারভর্তি গুদাম ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থলে যান পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রসনজিৎ সাহা। তার উপস্থিতিতে গুদামের তালা খোলা হয় এবং ৫৫৩ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটা সোনারপাড়া গ্রামের একটি বাড়িসংলগ্ন গুদামে।

তবে সারগুলো ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা জানতে রাসায়নিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সারগুলো কীভাবে আনা হয়েছে এবং এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় লোকজন।

এ ব্যাপারে রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ‘সারগুলোর কার্যকারিতা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন। পরীক্ষায় সারগুলো ব্যবহারের উপযোগী প্রমাণিত হলে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে। আর ব্যবহার অনুপযোগী হলে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। ইতোমধ্যে সারের নমুনা পরীক্ষার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫৫৩ বস্তা সার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সার আনার পর থেকেই এলাকাবাসী গুদামটির ওপর নজর রাখছিলেন। জমাট বাঁধা সার গুঁড়া করার সময় কেউ একজন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গুদামটি ঘিরে রাখেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রোববার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকারও গুদামটি পরিদর্শন করেন। এসময় সারের মালিক মাইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে এসব সার আনা হয় বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সারের মালিকের নাম মাইনুল ইসলাম। বানেশ্বর বাজারে তার রহমান স্টোর নামে একটি মুদিদোকান রয়েছে। মাইনুল স্থানীয় মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তির গুদাম ভাড়া নিয়ে সার রেখেছেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুদামের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে সেটি ঘিরে রেখেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে ভেজা ও জমাট বাঁধা সার হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে দেখা যায়। রাতে সারের মালিক উপস্থিত না থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) চলে যেতে চাইলে এক বাসিন্দা গুদামটি সিলগালা ও পাহারার ব্যবস্থা না করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে প্রসনজিৎ সাহাকে বলতে শোনা যায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা সেখানে গেছেন। মামলা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি রসিদে ‘ডেলিভারি চালান, ভেজা/নষ্ট পণ্য’ লেখা রয়েছে। এতে এমভি মুনতাহা হোসেন নামের একটি লাইটার জাহাজ থেকে মি. ওসমানকে (আফসার) পণ্য সরবরাহের অনুমতির উল্লেখ আছে। রসিদটিতে সাল সা বিলা শিপিং লাইনসের অ্যাকাউন্টস অফিসার আবদুল কাদেরের স্বাক্ষর রয়েছে।

সারের মালিক মাইনুল ইসলামের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরে মাইনুলের বরাত দিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার জা1নান, মাইনুল কোনও সারের ডিলার নন। এসব সার আনার বিষয়ে কৃষি অফিসকেও জানানো হয়নি। পুকুর ও বাগানে ব্যবহারের জন্য সারগুলো আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে পুকুর ও বাগান কোথায়, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সারগুলোর প্রকৃত অবস্থা, ব্যবহারের উপযোগিতা এবং সেগুলো আনার বৈধতা—সবকিছুই এখন যাচাইয়ের অপেক্ষায়। রাসায়নিক পরীক্ষার ফল ও প্রশাসনিক তদন্তের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় খরব আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2026 Sanatani Research & IT Limited
Designed By Barishal Host