সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গুরুর প্রতি শিষ্যের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত দেখা গেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। গুরুর জ্বলন্ত চিতার পাশে বসে এক মুসলিম শিষ্যের নিভৃত কান্নার দৃশ্য আবেগাপ্লুত করেছে উপস্থিত সবাইকে।
মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের প্রবীণ কাঠমিস্ত্রি শ্যামাপদ সরকার (৮৫)। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রিয় শিষ্য জোহর আলী গাজী (ঢালী মিস্ত্রি)।
বুধবার দুপুরে বুড়িয়া শ্মশানঘাটে শ্যামাপদ সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার সময় জোহর আলীকে জ্বলন্ত চিতার পাশে একা বসে থাকতে দেখা যায়। বিষাদগ্রস্ত চোখে তিনি তাকিয়ে ছিলেন গুরুর চিতার দিকে। দীর্ঘদিন গুরুর কাছে কাঠমিস্ত্রির কাজ শিখতে গিয়ে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্কের কাছে যেন ধর্মীয় পরিচয়ের সব বিভাজনই ম্লান হয়ে যায়।
এই হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন আশাশুনি প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও সাংবাদিক এস এম শরিফুল ইসলাম। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
শ্মশানঘাটে উপস্থিত মানুষেরাও দৃশ্যটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কোনো বক্তৃতা কিংবা আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, গুরুর প্রতি একজন শিষ্যের নিঃশব্দ ভালোবাসা ও চোখের জলই যেন তুলে ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্কের এক অনন্য ছবি।
ধর্ম যার যার, কিন্তু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মানবতার জায়গাটি সবার—আশাশুনির এই দৃশ্য যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই প্রতিচ্ছবি।
Leave a Reply