1. admin@sanataninews24.com : admin :
       
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদের শিরোনাম
যশোরের ৪৩টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে ১৭শ’ গাড়ি তল্লাশি কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য ও ৪৩টি মোটরসাইকেল আটক যশোরে গভীর রাতে হিন্দু বাড়িতে চাঁদা দাবির অভিযোগ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, সহযোগী হাসপাতালে সৌরবিদ্যুতে চলছে ২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল, বিল ৩০ হাজার থেকে নেমে ৫ হাজারে সঞ্চয়পত্রে ভোগান্তি কমাতে আজ থেকে নতুন ব্যবস্থা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ পাকা মাঠে মাটি ভরাট! বাউফলে ৩১৮ প্রকল্পের প্রায় চার কোটি টাকা লুটপাট ডিআইজিসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি, পুনঃতদন্তের নির্দেশ মারা গেলেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে অক্সিজেন সংকট, একরাতেই মারা গেল সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ

  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার পড়েছেন

বেনাপোলের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন সংকট তৈরি হয়ে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মাছ মারা যাওয়ার দাবি করেছেন ঘের মালিকরা। গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের আকস্মিক মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।

ঘের মালিকদের দাবি, দিনে-রাতে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এ ঘটনার পর শার্শার অন্যান্য এলাকার মৎস্যচাষিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোনামুখো বিলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। খামার মালিকদের হিসাবে, ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মাছগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

খামার মালিক আলফাজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাছের খাদ্য বাবদ বাকিতে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়েছি। এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

অন্য খামারি ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পচতে শুরু করে।’

রপ্তানি প্রক্রিয়াও ব্যাহত
খামার সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এই মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণেই ভূমিকা রাখে না, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখে।

তাদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেননি। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় খরব আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2026 Sanatani Research & IT Limited
Designed By Barishal Host