1. admin@sanataninews24.com : admin :
       
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
সংবাদের শিরোনাম
চাঁনখারপুুলের মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার বান্দরবানে শিশু শ্লীলতাহানির অভিযোগে চিকিৎসক মানিক কুমার নাথ আটক যশোরের ৪৩টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে ১৭শ’ গাড়ি তল্লাশি কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য ও ৪৩টি মোটরসাইকেল আটক যশোরে গভীর রাতে হিন্দু বাড়িতে চাঁদা দাবির অভিযোগ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, সহযোগী হাসপাতালে সৌরবিদ্যুতে চলছে ২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল, বিল ৩০ হাজার থেকে নেমে ৫ হাজারে সঞ্চয়পত্রে ভোগান্তি কমাতে আজ থেকে নতুন ব্যবস্থা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ পাকা মাঠে মাটি ভরাট! বাউফলে ৩১৮ প্রকল্পের প্রায় চার কোটি টাকা লুটপাট

চার হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা পেল না শিশু আফিয়া, ঠাঁই হলো কবরে

  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়েছেন

হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৩ জুলাই শিশু আফিয়াকে ভর্তি করা হয় ফরিদপুর মেডিক্যালে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সেই রাতেই আফিয়াকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয় পরিবার। ঢাকা মেডিক্যালসহ চার হাসপাতাল ঘোরা হয় সেই রাতে। চিকিৎসা না পেয়ে রাতে আবার ফরিদপুরে নেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে ফের ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান আফিয়া আর নেই।

শিশু আফিয়ার বয়স মাত্র ছয় মাস। বাবা মিঠুন শেখ ঢাকার একটি কার্টন ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। মা গৃহিণী। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের ছোট সংসার।

আফিয়ার পরিবার জানায়, চিকিৎসকদের পরামর্শে ৭ আগস্ট রাতে ঢাকায় নেওয়া হয় আফিয়াকে। রাত ১২টার দিকে প্রথমে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায়, সেখানে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) খালি নেই। এরপর আফিয়াকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও পিআইসিইউতে কোনো শয্যা খালি ছিল না।

পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয় একটি শয্যার ব্যবস্থা করে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা তাদের না করে দেন। ওই কর্মকর্তার নাম বলতে পারেননি আফিয়ার বাবা মিঠুন শেখ।

ঢামেকে ব্যবস্থা না হওয়ায় আফিয়াকে নেওয়া হয় মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে। সেখানেও পিআইসিইউ খালি ছিল না। পাশাপাশি আইসোলেশন সুবিধা না থাকায় হামের রোগী ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শেষ আশায় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ছুটে যায় পরিবার। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি বলে জানান শিশুর বাবা মিঠুন শেখ।

ঢাকার কোথাও চিকিৎসা না পেয়ে আবারও ফরিদপুর মেডিক্যালে নেওয়া হয় শিশু আফিয়াকে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা নিলেও রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসে পরিবার। কিন্তু এবার আর কোনো শয্যা, কোনো চিকিৎসা কিংবা অক্সিজেনের প্রয়োজন হলো না। বিদায় নিল আফিয়া। কর্তব্যরত চিকিৎসক আফিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক কর্তৃপক্ষ বলছে, হাম ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর তুলনায় সেখানে সিট সংখ্যা খুবই কম। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে মাত্র ৩২টি সিট রয়েছে হাম রোগীদের জন্য ডেডিকেটেট।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাম ডেডিকেটেড আমাদের মাত্র ৩২টির মতো সিট আছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সংকটময় মুহূর্তকে যদি রোগী নিয়ে আসে আমাদেরকে বলে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সেটা কিভাবে সম্ভব।’

আফিয়ার পরিবারের অভিযোগ তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়নি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘যে রোগীর কথা বলছেন সেটা আমি জানি না স্পেসিফিক। সেটা খোঁজ নিয়ে আমাকে বলতে হবে। আর এমনটা হওয়ার কথা না। তারপরও আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

আফিয়ার মৃত্যুর পর তার বাবা মিঠুন শেখ ঢামেকেই বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি শুধু বলছিলেন, ‘আজকে টাকার জন্য আমার মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না।’
পাশে বসে কাঁদছিলেন আফিয়ার মা।

মিঠুন শেখ বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে এক দিনেই ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এমন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে অসংখ্য পরিবারকে প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, চিকিৎসা করাবে, নাকি সংসার চালাবে।’

শিশু আফিয়ার বিষয়ে জানাতে কথা হয় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ৭০০ বেডের মধ্যে ১০০টি আইসিইউ আছে। এগুলো সব সময় ফুল থাকে। এখানে পুরো দেশ থেকে রোগী আসে, এখন যারা ভর্তি থাকে তাদেরকে সরিয়ে নতুন কাউকে ভর্তি করা যায় না। এখন আমরা কী করব?’

হাসপাতাল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিট রিজার্ভ করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘এমন প্রশ্নেই উঠে না। আমাকে লিখিত দিতে বলেন, আমি তদন্ত করব।’

তিনি বলেন, আমরা এখানে অনেক কষ্ট করছি। আমাদের দরকার দুই হাজার বেড। আমরা চাই এখান থেকে কোনো রোগী ফিরে না যাক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জন। এ ছাড়া এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ২৭৮ জন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় খরব আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2026 Sanatani Research & IT Limited
Designed By Barishal Host