সংস্কার ইস্যুতে এখনও অটুট রয়েছে জামায়াত-এনসিপির ঐক্য। বরং রাজনৈতিকভাবে বিরোধী মত মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার তাদের ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। তাদের ভাষ্য, ১১ দলীয় ঐক্য থেকে এনসিপি বেরিয়ে যাচ্ছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন তথ্য সঠিক নয়।
দেশের রাজনীতিতে জোটের সমীকরণ নতুন নয়। ইতিহাস বলে, এসব জোটের বেশিরভাগই মূল আদর্শগত বোঝাপড়ার চেয়ে ভোটের অঙ্ক মেলানোর হিসাবেই বেশি গড়ে উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির গাঁটছড়াটাও অনেকটা তেমনই ছিল। যদিও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও এক ধরনের সমঝোতার আভাস ছিল।
অবশেষে সংস্কার, গণভোটসহ কয়েকটি দাবিতে কাছাকাছি অবস্থানে থেকে এনসিপির সঙ্গে ঐক্য গড়ে তোলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন অন্যান্য ইসলামী দল। ভোট পরবর্তী সময়ে সেই বোঝাপড়া আরও নিবিড় হয়।
তবে বছর না ঘুরতেই কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, আস্থার সংকটের কারণে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বাড়ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় দল দুটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। তাদের দাবি, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও তাদের ঐক্য অটুট রয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এখন পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট থেকে এনসিপি বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের দলের কোনো ফোরামে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসেনি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলেও এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়েছে বলে আমরা শুনিনি। নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এমনকি দলের এক্সিকিউটিভ কমিটিতেও এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলীয় যে ঐক্য রয়েছে, আমরা নির্বাচনী সমঝোতার পর সংসদে এবং রাজপথে একসঙ্গে ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
দল দুটির নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী মত মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার তাদের ঐক্যে ভাঙন ধরাতে চায়, যাতে নতুন ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পথ উন্মুক্ত হয়।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জাতির কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকার সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, গণভোটের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। সেই জায়গায় সরকার সফল না হওয়ায় এখন আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের কোনো সংকট নেই। তবে বিভক্তির ষড়যন্ত্র চলছে। আশা করি, তা সফল হবে না।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরও বলেন, তাদের তো আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা থাকবেই এবং সবসময়ই ছিল। সুতরাং সেই চেষ্টা চলবে। তবে আমরা মনে করি, এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যারা আছেন, তাদের কেউই এ ধরনের পাতানো ফাঁদে পা দিচ্ছেন না।
খেলাফত মজলিসসহ জোটের কয়েকটি শরিক দল নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও, ১১ দলীয় জোটের দাবি সব শরিক এখনও একতাবদ্ধ রয়েছে।
Leave a Reply