চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কিশোর নাইমকে নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে ইরান (৫০) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ সময় তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটের খীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০ জুলাই একশ পিস ইয়াবা চুরির অভিযোগ তুলে ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাইমকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নাইমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন, যেখানে নুরুল ইসলাম ওরফে ইরানকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।
নাইমের মৃত্যুর পর শনিবার রাতে জানাজা শেষে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ইরানকে খুঁজতে বের হয়। রাত ৯টার দিকে তার একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি গোয়ালঘর থেকে পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন ইরান। ধাওয়া শেষে গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এরপর ক্ষুব্ধ জনতা ইরানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে তার বাড়ির পাশাপাশি তিন ভাই ও এক বোনের বসতঘরও পুড়ে যায়। পরিবারের দাবি, এতে তিনটি মোটরসাইকেল, দুটি সিএনজি অটোরিকশা, দুটি ভ্যান ও দুটি কৃষিকাজের ট্রাক্টর ভস্মীভূত হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী খালেদা আক্তার ও ছেলে রিফাত জানান, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নাইমকে মারধরের ঘটনাও সত্য। তবে তাদের অভিযোগ, পুলিশ সময়মতো তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পরিস্থিতির এমন পরিণতি হয়েছে। তারা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনারও বিচার দাবি করেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোল্লা আলমগীর জানান, নাইম হত্যা মামলার পর থেকেই ইরানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। এর মধ্যেই তিনি গণপিটুনিতে নিহত হন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইরানের দুই সহযোগী আলতাফ (৪৫) ও বাদশা (৫০)-কে আটক করা হয়েছে। আলতাফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আহত বাদশা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Leave a Reply