1. admin@sanataninews24.com : admin :
       
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদের শিরোনাম
৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, সহযোগী হাসপাতালে সৌরবিদ্যুতে চলছে ২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল, বিল ৩০ হাজার থেকে নেমে ৫ হাজারে সঞ্চয়পত্রে ভোগান্তি কমাতে আজ থেকে নতুন ব্যবস্থা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ পাকা মাঠে মাটি ভরাট! বাউফলে ৩১৮ প্রকল্পের প্রায় চার কোটি টাকা লুটপাট ডিআইজিসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি, পুনঃতদন্তের নির্দেশ মারা গেলেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব হাসপাতালে অগ্নিকান্ড, হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে নিহত শাহজাহানের বাড়িতে শোকের মাতম বাহুবলে মাদক সেবন ও হট্টগোলের দায়ে ইছব আলীর ৭ মাসের কারাদণ্ড

গ্যাস বিস্ফোরণে ঝরে গেল একই পরিবারের ৩ জনের প্রাণ

  • প্রকাশিত সময় রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়েছেন

নতুন সংসারকে ঘিরে বুকভরা হাজারো স্বপ্ন আর একরাশ আশা নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনিকে সঙ্গে করে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন, ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলবেন ভালোবাসার সুন্দর একটি নীড়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো লিখেছিলেন অন্য এক করুণ ইতিহাস! একটি অবহেলা আর গ্যাসলাইনের বিষাক্ত লিকেজ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।

দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সঙ্গে লড়ে অবশেষে শনিবারে (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে ফাহিমা।

একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্প‌তিবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং শুক্রবার মারা যান প্রিয় ভাগনি হাফসা। একই পরিবারের তিনজনের এমন বিদায়ে দেবিদ্বারে এখন বইছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সে লক্ষ্যেই স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনি হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে।

আগুনে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন ফাহিমা, তার স্বামী শাহিন ও শিশু হাফসা। উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান তার স্বামী ও ভাগনি হাফসা।

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার বাদ মাগ‌রিব শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আর শা‌হিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামে তার পা‌রিবা‌রিক কবরস্থানে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার পৌর সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বাঙ্গুরী গ্রামে শাহিনের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর পাশেই ফাহিমার দাফন করা হয়।

মেয়েকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা গোলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বাসায় উঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের এই কথাকে কোনো গুরুত্বই দেননি। সময়মতো একটু ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণে আজ আমার মেয়েকে হারালাম, আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় খরব আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2026 Sanatani Research & IT Limited
Designed By Barishal Host