অতিথি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে পারা এবং অবশেষে শেখ হাসিনার পতন প্রত্যক্ষ করা আমাদের মতো ভাগ্যবানেরাই পেরেছে। দেশবাসী ১৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আকাঙ্ক্ষাগুলো এই সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত দেখতে চায়। জননেতা তারেক রহমানকে দেশবাসী প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন এবং তিনি দেশ গঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার এই প্রচেষ্টা প্রতিটি ঘরে সুখের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। যশোরে ৬৮ জন বীর যোদ্ধাসহ যারা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের সহযোদ্ধাদের হত্যার বিচার পেতে হলে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্র আন্দোলনে যশোরের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা অতুলনীয়। তারা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও রাজপথে ছিলেন। আমরা তখন বলেছিলাম, যেদিন মানুষ আপনাকে ধিক্কার জানাবে সেদিন পালাবার সুযোগও পাবেন না। পুরো দেশবাসী তার বাস্তব প্রমাণ দেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে তারেক রহমানকে সফল করার বিকল্প নেই। তারেক রহমান সফল হলেই নতুন প্রজন্ম আলোর পথ দেখাতে পারবে। তিনি বলেন, জনগণ আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পালনের সুযোগ দিন। আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে । বিএনপি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সবগুলো পদক্ষেপই বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু একটি বিরোধী দল অপেক্ষা করতে চাইছে না।
জেলা আহবায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, জামায়াতের কর্মীরা জান্নাতের টিকিট দেয়ার নাম করে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাচ্ছেন। যা সাধারণ মানুষ মেনে নেবেনা। তিনি আরও বলেন, হাসিনাসহ তার সকল সহযোগী ও নিপীড়নকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।
বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনছারুল হক রানা, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পীসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর।
উল্লেখ্য, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসেন। শহরজেুড়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। সন্ধায় শান্তিপূর্নভাবে এ গণ সমাবেশ শেষ হয়।
Leave a Reply