কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল মহাশ্মশান ঘাটের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মঠ ও শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর ধরে সতাল মহাশ্মশান ঘাট এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্যের অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শ্মশান চত্বরে অবস্থিত প্রাচীন মঠটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্মশানের সীমানা পরিবর্তন করে মঠসংলগ্ন প্রায় দুই শতাংশ জমি দখল করেছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে শ্মশানের অংশ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক মঠটি বর্তমানে শ্মশানের সীমানার বাইরে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সতাল মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি বাপ্পি দত্ত বলেন, “আমাদের জন্মের পর থেকেই এই মঠ ও এর চারপাশের জায়গা শ্মশানের সম্পত্তি হিসেবে দেখে আসছি। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত একটি পবিত্র স্থান। কিন্তু কিছুদিন আগে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মঠটিকে বাউন্ডারির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং শ্মশানের প্রায় দুই শতাংশ জমি দখল করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার করে শ্মশানের আগের সীমানা ফিরিয়ে না দিলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, “এই শ্মশান ও মঠ প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। মানবিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দখলকৃত জায়গা শ্মশান কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শ্মশানের পবিত্রতা, ধর্মীয় মর্যাদা ও ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সুরক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করে শ্মশানের সম্পত্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ও শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগ শুধু সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ নয়; এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গেও জড়িত। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
Leave a Reply