শেরপুর, ৮ জুলাই: শেরপুরের নকলায় চাঁদা না পেয়ে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে অপহরণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
সোমবার (৬ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম (৫২) শেরপুরের বিজ্ঞ সি.আর. আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন নকলা উপজেলার পিঁপড়ীকান্দি গ্রামের মো. আবু সাঈম মির্জা (৩৫), মেদীরপাড় গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম গেন্দু মিয়া (৪৫) এবং বাউসা গ্রামের মো. লিটন মিয়া (৩৬)। মামলায় আরও ৬ থেকে ৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, মো. শহীদুল ইসলাম নকলা উপজেলার বড়ইতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী শরুফা বেগম একই উপজেলার মেদীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৩ জুলাই রাত প্রায় ৮টার দিকে শেরপুর সদরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খারজান বাজার এলাকা থেকে অটোরিকশায় ওঠার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে চোখ বেঁধে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অপহরণের পর তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং জোর করে ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ৪ জুলাই ভোরে অভিযুক্তরা তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় গণপদ্দী বাজারে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা নিজেদের শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার রাতে নকলা থানায় দায়িত্বরত এএসআই এমদাদ জানান, তিনি ভুক্তভোগী ও সন্দেহভাজনদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সর্বশেষ অবস্থান (লাস্ট লোকেশন) শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ভুক্তভোগীকে থানায় আসতে বলা হয়েছিল।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, তিনি মামলা বা ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। মামলা থানায় এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলার এক নম্বর আসামি মো. আবু সাঈম মির্জার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
Leave a Reply